বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
বর্তমানে পাহাড়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খাগড়াছড়ির গুইমারার সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“এখন পাহাড়ে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। যেসব দুষ্টচক্র পূজা উদযাপনে বাধা দিতে চেয়েছিল, তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী খাগড়াছড়িকে অশান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক ভূমিকার কারণে তারা কোনো বিশৃঙ্খলা ছড়াতে পারেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “ফ্যাসিস্টদের যেকোনো নাশকতা প্রচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
এর আগের দিন (সোমবার) তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিবেশী দেশের মদদে ফ্যাসিস্টদের দোসররা খাগড়াছড়িতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। পাহাড়ের ওপর থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়েছে, যেগুলো বাইরের উৎস থেকে আনা অস্ত্র। তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলায় টানা তৃতীয় দিনের মতো ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। শহরে প্রবেশ ও বহির্গমন পথে তল্লাশি চলছে। জুম্মা ছাত্র-জনতার অবরোধ কিছুটা শিথিল হলেও অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া ১৭৬০ মামলার মধ্যে ৫৫টির তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।
তিনি জানান, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩৬ জনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরও ২৩৬ জনকে নিরীহ মনে করে তাদের অব্যাহতির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৭৬০ মামলার মধ্যে ৭৬৬টি হত্যা মামলা এবং ৯৭৪টি অন্যান্য ধারার মামলা। চার্জশিট দেওয়া ৫৫টির মধ্যে ১৮টি হত্যা মামলায় ১,৯৪১ জন অভিযুক্ত হয়েছেন। বাকি ৩৭টি মামলায় ২,১৮৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
আইজিপি জানান, চার্জশিটকৃত ১৮টি হত্যা মামলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, শেরপুর, চাঁদপুর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মামলাগুলো বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও বরগুনা জেলায় তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এসব মামলার তদন্ত কেবল এসআই বা ইন্সপেক্টর নয়, সিনিয়র কর্মকর্তারাও সরাসরি তদারকি করছেন।”